দেশের অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা আতঙ্কিত!

অনলাইন ডেস্ক
মো: শরিফুল আলম মেহেদী
৩০ মার্চ ২০২০, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
১২১৭
এ্যাম্বুলেন্স

এখন পর্যন্ত দেশের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসে নাই। অথচ করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে একের পর এক সাহায্য বা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা।

তাদের প্রতি সম্মান রেখে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের নিয়ে ভাবতে অনুরোধ জানিয়েছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সংগঠন ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মি. আলমগীর হোসেন।

তিনি জানান, দেশের মানুষ কভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর থেকে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা আতঙ্কিত। প্রতিটি দেশেই রোগী স্থানান্তরের একমাত্র যান হিসেবে কাজ করে অ্যাম্বুলেন্স।

এদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়। সেজন্য দেশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর অন্যতম সেবা এই অ্যাম্বুলেন্স। রোগী স্থানান্তরে চালক ও সহযোগীরা নিজেদের জীবনবাজী রেখে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গত ২২ মার্চ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও সহযোগীদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণাদি সরঞ্জাম ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের জন্য সাহায্য চেয়ে সমিতির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। আবেদন পত্রে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও সহযোগীদের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর এডিশনাল ডি আই জি জনাব তোবারক উল্লাহ্, বিপিএম নিজে সুপারিশ স্বাক্ষর করেন।

আবেদনে বলা হয়, সমিতির সাথে বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকা ১০৩৭ জন মালিকের মোট ২০৮০টি অ্যাম্বুলেন্স এই সেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত। বৈশ্বিক দুর্যোগ তথা দেশের ক্রান্তিলগ্নে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও সহযোগীরা কাজ করতে প্রস্তুত। তবে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি যা প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ সংস্পর্শে না থাকা এবং পরিবেশ অনুযায়ী ক্ষার জাতীয় দ্রব্য দিয়ে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজারের ব্যবহার, মাস্ক পরিধান ও পোশাকের ব্যবহার বেশ গুরুত্বপুর্ন বলে তারা মন্ত্রণালয়ের সাহায্য প্রার্থনা করেন।

কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোন সুবিধা পায় নাই। এছাড়াও তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে উল্লিখিত বিষয়ে সাহায্য চেয়েছেন।

ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস কোভিড ১৯ কে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশের সচেতন ও বিত্তবানদের অনেকেই গুরুত্বপুর্ন বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সাহায্য সহযোগিতা এগিয়ে এসেছেন। সেই বিষয়গুলোর পাশাপাশি অসহায় ও স্বল্প শিক্ষিত বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালক ও সহযোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানান সংগঠনের নেতারা।

তারা মনে করেন, যদি অ্যাম্বুলেন্স চালক বা সহযোগীদের কেউ একজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং সে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে করোনা রোগী তো দুরের কথা সাধারন রোগীরাও অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হবার সুযোগ তৈরি হবে।

এই মানবতার সেবায় অন্যান্যদের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে। দেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েছে। সবশেষ হিসাবে করোনায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯, মারা গেছেন ৫ জন।

এছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৯ জন। এরমধ্যে কোন অ্যাম্বুলেন্স কর্মী ছিলনা বলে ধারনা করা হচ্ছে।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি


mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ