ওসি প্রদীপের গুলিতে ৩০ খুন

ওসি প্রদীপ

বন্দুকযুদ্ধের নামে কখনো মায়ের সামনে ছেলেকে, বোনের সামনে ভাইকে আবার কখনো কখনো স্ত্রীর সামনে স্বামীকে ধরে নিয়ে খুন করেছেন টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। তার ভয়ে কেউ-ই মুখ খুলতে পারতোনা। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাশ গ্রেফতার হওয়ার পর ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকেই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন আবার কেউ কেউ নিচ্ছেন। ফলে প্রদীপের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যাও বাড়ছে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের আদালতে প্রদীপের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে ১৪টি মামলা হয়েছে। এর বেশির ভাগই করা হয়েছে প্রদীপ ও তার বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে।

প্রদীপের আমলেই টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ১০৬টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনা তদন্তে গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটির সদস্যদের সামনে প্রদীপ নিজেই স্বীকার করেছেন, বন্দুকযুদ্ধগুলোর বেশির ভাগই তার নেতৃত্বে হয়েছে।

কমিটি জানতে চেয়েছিল, আপনি কতবার নিজে গুলি করেছেন, কী অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছেন? জবাবে প্রদীপ বলেছেন, তিনি ২০-৩০ বার গুলি করেছেন, ব্যক্তিগত অস্ত্র দিয়ে।

প্রদীপের কাছে কমিটি জানতে চায়, আপনি কি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, নাকি অধীনস্থদের পেছনে থাকেন? জবাবে প্রদীপ বলেন, আমি সামনে থেকেই পরিচালনা করি।

সাম্প্রতিক সময়ে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি হয় ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায়। মামলাটি করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এ মামলায় প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।

ওই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর প্রদীপকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। দুদকের করা মামলায় আদালতে হাজির করাতে ১২ সেপ্টেম্বর সকালে তাকে কক্সবাজার কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

এসএম/আওয়াজবিডি


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
https://www.awaazbd.news/author/awaazbd-online-news

আওয়াজবিডি অনলাইন ডেস্ক

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ